No Comments

OUR RAJSHAHI BANGLADESH

পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর রাজশাহী। আম ও রেশমী বস্ত্রের জন্যে বিখ্যাত রাজশাহী জেলা রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বড় শহর। প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সমৃদ্ধ এই রাজশাহী শহরে রয়েছে বিখ্যাত মসজিদ, মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থাপনা।

আম ও রেশমী বস্ত্রের জন্যে বিখ্যাত রাজশাহী জেলা রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বড় শহর। প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সমৃদ্ধ এই রাজশাহী শহরে রয়েছে বিখ্যাত মসজিদ, মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। পদ্মার তীরের এই শহরের পর্যটকদের জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থানের মধ্যে রয়েছে বাঘা মসজিদ, পুঠিয়া রাজবাড়ি, পদ্মার পাড়, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শিশু পার্ক, হাওয়াখানা, পদ্মা গার্ডেন, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি।

রাজশাহী

রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা

পদ্মার তীর ঘেঁষা এক সময়ের রেসকোর্স ময়দানের ৩২.৭৬ একর জায়গা জুড়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়েছে। রাজশাহী শহর থেকে চিড়িয়াখানার দূরত্ব মাত্র ৪.২ কিলোমিটার। ১৯৭২ সালে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জাম সড়কের কাছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানার নির্মাণ কাজ শুরু হলে ১৯৭৪-৭৬ সালে রাজস্ব বিভাগের অনুমতিক্রমে এখানে চিড়িয়াখানার পাশাপাশি একটি শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানাটি শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা (Shaheed A.H.M. Kamruzzaman Central Park & Zoo) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

চিড়িয়াখানার প্রধান প্রবেশ গেইটে বিদ্যমান জিরাফের বিশাল ভাস্কর্য ও মৎস্য কুমারীর ফোয়ারা নজরে পড়ে। নানারকম ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের ছায়া ঘেরা পার্কের ভিতরে আছে বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য ও নান্দ্যনিক ব্রিজ সহ একটি ছোট্ট লেক। চিড়িয়াখানায় উল্লেখযোগ্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে বাজরিকা, বালিহাস, ঘোড়া, হরিণ, উদবিড়াল, অজগর সাপ, কুমির সহ বিভিন্ন জলজ ও স্থলজ পশুপাখি। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের এই উদ্যানের কৃত্রিম পাহাড় থেকে পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া পার্কে দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের জন্য প্যাডেল বোট, নাগর দোলা সহ বেশকিছু আকর্ষণী রাইড রয়েছে।

বর্তমানে এই শিশু পার্কটি রাজশাহী শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাজশাহীর স্থানীয় দর্শনার্থী ছাড়াও প্রতিদিন শিক্ষা সফর ও বনভোজনের উদ্দেশ্যে এখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও পর্যটকের সমাগম ঘটে।

 

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর

রাজশাহী শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর (Varendra Research Museum) হল বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর। আর প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহের তালিকায় বরেন্দ্র জাদুঘর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম। ১৯১০ সালে নাটোরের দিঘাপাতিয়ার জমিদার শরৎ কুমার রায়, আইনজীবী অক্ষয় কুমার মৈত্র এবং রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক রামপ্রসাদ চন্দ্র বাংলার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের জন্য বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি গঠন করে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে ৩২টি দুষ্প্রাপ্য নিদর্শন সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর নিজস্ব ভবনে যাত্রা শুরু করে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের অস্তিত্ত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানারকম সংকট দেখা দেয়। ১৯৪৯ থেকে ১৯৬১ সাল পযর্ন্ত বরেন্দ্র জাদুঘরের অর্ধেক অংশ মেডিকেল স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৬৪ সালে পুনরায় জাদুঘর বন্ধ হবার উপক্রম হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরটি অধিগ্রহণ করে। মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ছাড়াও বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।

শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা

উত্তরাঞ্ছলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রান্তরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগ্রহ নিয়ে গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা (RU Martyrs Memorial Museum)। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জাদুঘর হিসেবে পরিচিত এই সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও নানা স্মৃতি সংরক্ষিত আছে। তরুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে ১৯৭৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার কমপ্লেক্সে এই সংগ্রহশালাটি যাত্রা শুরু করে। প্রতিদিন এখানে অসংখ্য দর্শনার্থী সংগ্রহশালায় আসেন।

৬,৬০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে চমৎকার স্থাপত্য নৈপুণ্যে গড়া শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা তিনটি গ্যালারিতে বিভক্ত। প্রথম গ্যালারিতে ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের নানা সংগ্রহ অর্থাৎ বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন নিদর্শন স্থান পেয়েছে। এই গ্যালারিতে আছে ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যত্থানের বিভিন্ন ছবি, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত পোশাক, রাজশাহীর প্রথম শহীদ মিনারের ছবি, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র, শিল্পীদের আঁকা মুক্তিযুদ্ধের ছবি, প্রতিকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত অসংখ্য দূর্লভ সংগ্রহ। দ্বিতীয় গ্যালারিতে আছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত জিনিপত্র, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রতীকী ভাস্কর্য, সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ছবি, পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের ছবি ও প্রতিকৃতি সহ অন্যান্য সংগ্রহ। তৃতীয় গ্যালারিতে রয়েছে একাত্তরের গণহত্যায় নিহত শহীদের মাথার খুলি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ ও বিজয়ী মুক্তিসেনাদের ছবি।

শিশু পার্ক

রাজশাহী জেলা সদরের নওদাপাড়া বড় বনগ্রামে অবস্থিত শিশু পার্ক রাজশাহী শহরের একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। নয়নভিরাম পিকনিক স্পট, সব বয়সীদের জন্য দেশি-বিদেশি রাইড, সুবিশাল লেক এবং নৌকা ভ্রমনের সুব্যবস্থা ২০০৬ সালে নির্মিত এই পার্কটিকে শহরবাসীর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এই শিশু পার্ক শহীদ জিয়া শিশু পার্ক নামে অধিক পরিচিত।

১২.২১ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত শহীদ জিয়া শিশু পার্কে আছে মেরী গো রাউন্ড, মিনি রেলকার, ফ্লুম রাইডস, স্কাই বাইক, সুপার সুইং, বাম্পার কার, বাম্পার বোট, কিডি রাইডস, থ্রিডি মুভি থিয়েটার, পেডেল বোট, প্যারাট্রুপার, টি কাপ, ব্যাটারী কার, বাউন্সি ক্যাসেল, হর্স রাইড, ফ্রগ জাম্প এবং হানি সুইং ইত্যাদি। এছাড়া ১০ বছরের ছোট বাচ্ছাদের জন্য রয়েছে ফ্রি ফিজিক্যাল গেমস্‌। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা, ওয়াস রুম এবং কার পাকিংয়ের সু-ব্যবস্থা রয়েছে।

You might also like
Tags: , , , , , , ,

More Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Fill out this field
Fill out this field
Please enter a valid email address.
You need to agree with the terms to proceed

Menu